গ্রামের হেঁশেল থেকে সংগৃহীত নিখুঁত রান্নার বিস্তারিত ধাপসমূহ।
মাঝারিবাঙালির বিকেলের চায়ের আড্ডার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হলো গরম গরম আলুর সিঙ্গারা। মচমচে আবরণের ভেতরে আলু, বাদাম ও মটরশুঁটির ঝাল পুর দেওয়া এই সিঙ্গারা তেঁতুলের চাটনি বা কাঁচা মরিচের সাথে খেতে দারুণ লাগে।
কঠিনচট্টগ্রামের জগদ্বিখ্যাত মেজবানি গরুর মাংস! সরিষার তেল এবং বিশেষ মেজবানি মসলায় রান্না করা এই মাংস প্রচুর ঝাল, তেলতেলে এবং অতুলনীয় স্বাদের হয়। সাদা ভাতের সাথে এটি অমৃত।
সহজবাঙালি পূজার ভোগের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ নিরামিষ লাবড়া। পাঁচফোড়ন ও সরিষার তেলে রান্না করা পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া এই পাঁচমেশালি সবজির স্বাদ এক কথায় অপূর্ব। খিচুড়ির সাথে লাবড়া ছাড়া পূজার আনন্দই অসম্পূর্ণ।
মাঝারিরেস্টুরেন্টের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পদ। তন্দুরে পোড়ানো মেরিনেট করা মুরগির টুকরোগুলো অত্যন্ত ক্রিমি, মসলাদার এবং টমেটো-নির্ভর দারুণ এক গ্রেভিতে রান্না করা হয়। নান রুটির সাথে এর স্বাদ অতুলনীয়।
মাঝারিঅত্যন্ত সুস্বাদু এবং ক্রিমি একটি পদ দই মুরগি। টক দই এবং কাজুবাদামের পেস্ট দিয়ে তৈরি এই হালকা মিষ্টি ও সুগন্ধি গ্রেভি পোলাও বা পরোটার সাথে খেতে দারুণ লাগে।
মাঝারিব্রিটিশ আমলের এক নস্টালজিক রেসিপি ডাকবাংলো চিকেন। সেদ্ধ ডিম ও বড় আলুর টুকরো দিয়ে রান্না করা এই হালকা মসলাদার ও সুস্বাদু মুরগির ঝোল তখনকার দিনের ডাকবাংলোগুলোর সিগনেচার ডিশ ছিল।
কঠিনবাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী মাংসের পদ! প্রচুর মসলা দিয়ে গরুর মাংস দীর্ঘ সময় ধরে অল্প আঁচে রান্না করা হয়, যতক্ষণ না এর রং গাঢ় কালো (কালা ভুনা) হয়। এই মাংস মুখে দিলেই গলে যায় এবং এর স্বাদ ভোলা যায় না।
মাঝারিবাঙালির সকালের নাস্তা বা উৎসবের আয়োজনে ফুলকো লুচি ছাড়া কি চলে? ময়দা ও ঘিয়ের ময়ান দিয়ে তৈরি নরম, সাদাটে এবং বলের মতো ফুলে ওঠা এই মচমচে লুচি আলুর দম বা ছোলার ডালের সাথে খেতে অমৃতের মতো লাগে।
মাঝারিবাঙালি স্ট্রিট ফুডের অন্যতম সেরা একটি আইটেম মোগলাই পরোটা! মচমচে ও সোনালী করে ভাজা চারকোনা এই পরোটার ভেতরে থাকে কিমা, ডিম, পেঁয়াজ এবং কাঁচা মরিচের দারুণ ঝাল ও সুস্বাদু পুর। সাথে আলুর দম হলে তো কথায় নেই!
কঠিনযেকোনো বাঙালি উৎসব বা বিয়ের বাড়ির অন্যতম মূল আকর্ষণ এই চিকেন রোস্ট। টক দই, কাজু-পোস্ত বাটা, পেঁয়াজ বেরেস্তা এবং সুগন্ধি গরম মসলার তৈরি গাঢ় ও মজাদার গ্রেভিতে রান্না করা এই রোস্ট পোলাওয়ের সাথে খেতে অসাধারণ লাগে।
সহজবাঙালির যেকোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই নারিকেল দিয়ে ছোলার ডাল। ঘিয়ের সুবাস, ভাজা নারিকেলের টুকরো এবং কিসমিসের মিষ্টি স্বাদ এই ঘন ডালটিকে লুচি বা পোলাওয়ের সাথে এক অসাধারণ জুটিতে পরিণত করে।
মাঝারিবাঙালির অত্যন্ত প্রিয় একটি চাইনিজ ডিশ চিলি চিকেন! মচমচে ফ্রাইড চিকেনের টুকরোগুলো ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ ও সয়া সস নির্ভর এক দারুণ টক-ঝাল-মিষ্টি সসে মাখানো। ফ্রাইড রাইসের সাথে এর জুড়ি মেলা ভার।
সহজবাঙালির রোজকার খাবারের অন্যতম সেরা ও প্রিয় একটি পদ ডিমের কালিয়া। তেলে লালচে করে ভাজা সেদ্ধ ডিম ও আলুর টুকরো দিয়ে তৈরি গাঢ় এবং মশলাদার এই ঝোল গরম ভাত, রুটি বা পোলাওয়ের সাথে খেতে অসাধারণ লাগে।
মাঝারিবাঙালি স্ট্রিট ফুডের রাজা! মচমচে গোলগাল ফুচকার ভেতরে আলু, ডাবলি বুট, কাঁচা মরিচ এবং চটপটি মসলার ঝাল পুর। সাথে তেঁতুলের টক-ঝাল পানি (টক জল) যা আপনার জিভে জল এনে দেবে মুহূর্তেই।
মাঝারিবাঙালির শীতের অন্যতম সেরা আকর্ষণ এই ক্ষীর পাটিসাপটা। চালের গুঁড়ো ও সুজির নরম আবরণের ভেতরে ঘন দুধের ক্ষীর এবং নলেন গুড়ের মিষ্টি পুর দেওয়া এই পিঠার স্বাদ একবার খেলে মুখে লেগে থাকবে।
সহজগরম ভাতের সাথে অমৃত! ভাজা চিংড়ি, পোড়া শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ কুঁচি এবং খাঁটি সরিষার তেলের ঝাঁঝে তৈরি এই ঝাল ঝাল চিংড়ি ভর্তা আপনার জিভে জল আনতে বাধ্য।
মাঝারিবাঙালির রবিবারের দুপুরের এক অনবদ্য আকর্ষণ! খাসির মাংসের কষা। পেঁয়াজ, আদা, রসুন, টক দই এবং বিশেষ ভাজা মসলায় ধীর আঁচে কষানো গাঢ় কালচে রঙের এই মাংসের পদটি আপনার মন জয় করতে বাধ্য।
কঠিনবাঙালি রসনার মুকুটমণি! কাঁচা খাসির মাংস, সুগন্ধি বাসমতি চাল, ভাজা আলু এবং জাফরানের অপূর্ব মিশ্রণ। মাটির হাঁড়িতে দমে রান্না করা এই কাচ্চি বিরিয়ানির সুবাস এবং স্বাদ আপনাকে মুগ্ধ করবে।
মাঝারিতাজা ইলিশ মাছ দিয়ে তৈরি খাঁটি বাঙালি সর্ষে ইলিশ। ঘন হলুদ সরিষা বাটা, কাঁচা মরিচ এবং ঝাঁঝালো খাঁটি সরিষার তেলের অনবদ্য মিশ্রণ যা দেখলেই জিভে জল আসবে। গরম ভাতের সাথে এর স্বাদ ভোলা অসম্ভব।